Logo
প্রিন্টের তারিখ: 04 November 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 21, 2026

সংবাদ শিরোনাম : কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে সেচ পাম্পের বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহতের ঘটনায় মামলা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে সেচ পাম্পের বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহতের ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় হারেছ মিয়া (৪৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চারিতলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. হারুন মিয়া বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চারিতলা এলাকার একটি সেচ পাম্পের ইজারা নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২ অক্টোবর নিয়ামতপুর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খরচের অনুপাত এবং লভ্যাংশ বণ্টনের কথা থাকলেও অভিযুক্তরা সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে সেচ পাম্পটি জবরদখল করে নেয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা পূর্বেও খুন-খারাবির হুমকি দিয়েছিল।

পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ১৫ অক্টোবর সকালে অভিযুক্তরা রামদা, বল্লম, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চারিতলা গ্রামের ১৪নং সাক্ষী মো. সৈয়দ উদ্দিনের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সৈয়দ উদ্দিনকে ধাওয়া করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে ঘরে ঢোকেন এবং চিৎকার শুনে হারেছ মিয়া এগিয়ে আসেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ৩ নম্বর আসামি কাছম আলী লোহার রড দিয়ে হারেছের বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর অন্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও বুকে আঘাত করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীদের রামদা ও রডের আঘাতে মো. শফিকুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মো. আবুল খায়ের, মো. এনায়েত হোসেন, মো. আসাদ উল্লাহ, মো. শহীদ, মো. লিমন, মুনতাজ, মো. উজ্জ্বল, মো. শিবলু, মোছা. বেদেনা আক্তার, মো. আকরাম হোসাইন ও মোছা. হোসনা আক্তারসহ অন্তত ১৭ জন গুরুতর আহত হন।

হামলাকারীরা ভুক্তভোগী সৈয়দ উদ্দিন, নাজমুল ও আবুল খায়েরের বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া অপর একটি ঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি ৩ লাখ টাকার ক্ষতি এবং এক নারীর গলা থেকে আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর আহত হারেছ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩:৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ অনুসন্ধানী বার্তা
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF