তাড়াইল প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ধলা গ্রামের শহীদ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের তাড়াইল আমলি আদালতে বাদী রফিকুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৭/২০২৫)। উক্ত মামলায় গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাড়াইল আদালত উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মামলার বিবাদী শহীদ হোসেন রাজমিস্ত্রী ফয়সাল, রিপন ও ঠিকাদার শফিককে দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রেখেছেন। এ বিষয়ে কাজের কারণ জানতে চাইলে বিবাদী শহীদ হোসেন কোনো সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে উল্টো দাবি করেন যে, আদালতে মামলা চলমান থাকায় রায় হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্মাণকাজ চালিয়ে যাবেন। এমনকি বিবাদীর স্ত্রী রুকসানা পারভীন বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করার কথা বললেও নির্মাণকাজ বন্ধ করেননি।
এদিকে, নির্মাণাধীন ওই জমিতে সোহাগ মিয়ার (ছয়দুল মিয়ার পুত্র) ২ শতাংশ জমি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সোহাগের অভিযোগ, শহীদ হোসেন গ্রামের কোনো সালিশ-দরবার বা আইনকানুন মানছেন না এবং জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ করছেন। তিনি বাধার সৃষ্টি করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ধলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর ও তমজিত মিয়া জানান, গ্রাম্য মাতব্বর ও এলাকাবাসী নিষেধ করা সত্ত্বেও শহীদ হোসেন তা আমলে না নিয়ে জবরদস্তি করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রতিবাদ করলে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছেন।
মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বলেন, "শহীদ গংয়ের ভয়ে আমি ও আমার পরিবার ভিটামাটিতে যেতে পারি না। তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।" উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি তাড়াইল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১০২৯, তারিখ: ২৭/১২/২০২৪) এবং পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় আরেকটি জিডি (নং- ১৭৬, তারিখ: ৩/৫/২০২৬) করেন।
বাদী অভিযোগ করেন, জিডি ও মামলার পরও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্তরা; বরং তার বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ২ জুন একটি সংবাদ সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা ও জিডি করার পরও তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। যেকোনো সময় অভিযুক্তরা তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
হেনস্তা ও আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
Anusandhani Barta